Tag - cat

একটি মা বিড়াল এবং বাচ্চাদের যত্ন

একটি বিড়াল যখন ছোট ছোট সুন্দর বাচ্চা দেয়, তখন তারা চায় একটু নিরাপদস্থান, নিয়মিত খাবার এবং একটু ভালোবাসা। হোক সে Stray cat অথবা ঘরে পালা বিড়াল, বাচ্চাদের সুস্থভাবে বেড়ে তোলার জন্য তখন তার চাই একটু বাড়তি যত্ন। সৌভাগ্যবশত, মা বিড়ালের খুব একটা মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। তবে আপনার উচিৎ অবশ্যই তার পাশে থেকে তাকে একটু যত্ন করা।
মানুষের কোলাহল থেকে দূরে, ঘরের একপাশে একটি নিরাপদ জায়গায় মা ও বাচ্চাদের জন্য বিছানা করে দিতে হবে। একটি বাক্সে, ঝুড়িতে অথবা বড় আকারের খাঁচার ভিতর কিছু নরম কাপড় বিছিয়ে দিতে হবে। এসময় তারা মানুষের উপস্থিতি পছন্দ করে না এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।স্থান পছন্দ না হলে মা বিড়াল বাচ্চাদের মুখে করে নিয়ে অন্য স্থানে চলে যায়। শীতকাল হলে ঘরের ভিতরে উষ্ণ কোনস্থানে রাখতে হবে।এ সময় বাড়িতে অন্য বিড়াল থাকলে তাদেরকে আলাদা রুমে রাখা উচিৎ।
এ সময় মা বিড়ালটি খুব সহজেই যাতায়াত করতে পারে এবং তার কাছাকাছি এমন কোন স্থানে খাবার, পানি ও লিটারবক্স দিতে হবে। ২-৩ দিনের মধ্যে তার খাবারের পরিমান ৪গুন বেড়ে যায়। এসময় তাকে পর্যাপ্ত পরিমানে Cat Wet Food, Cat Dry Food, মাছ, মাংস এবং পর্যাপ্ত পরিমানে পানি খাওয়াতে হবে। পুষ্টিকর এবং পরিমানে বেশি খাবার খাওয়ালে বাচ্চারা স্বাস্থ্যবান এবং সুস্থ হয়। তাই মা বিড়াল অনেক ব্যস্ত থাকে তাই তার খুব কাছাকাছি খাবার দিতে হবে।
বাচ্চারা প্রথম ৩-৪ সপ্তাহ শুধু মায়ের দুধ এ খাবে এবং প্রচুর ঘুমায়। এ সময় মা বিড়াল প্রতি ১-৩ ঘণ্টা পর পর বাচ্চাদের পরিচর্যা করে । বাচ্চারা তখন pee ও poop খুব কম করে। তবুও ১-২দিন পর পর তাদের বিছানা পরিষ্কার করে দিতে হবে। ৪সপ্তাহ বয়সে তারা নিজে নিজে শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করে, তখন তারা নিজেরাই লিটার বক্স এ গিয়ে লিটার ব্যবহার করতে পারে।
খেয়াল রাখতে হবে –
• বাচ্চা হওয়ার পরে ১-২সপ্তাহের মধ্যে বিড়াল mating করলে আবার pregnant হতে পারে। তাই ছেলে বিড়ালের কাছ থেকে তাকে দূরে রাখতে হবে।
• বাচ্চা বিড়ালের গায়ে Tick & Flea থাকলে খুব দ্রুত রক্তশূন্য হয়ে পড়ে এবং রোগে আক্রান্ত হয়। তাই মা বিড়ালকে এবং বাচ্চাদের Tick & Flea মুক্ত রাখতে হবে।
• সব বাচ্চারা একরকমভাবে বড় হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। অনেক বিড়াল অপুষ্টিতে ভোগে ফলে সমানভাবে বড় হয় না, তাদেরকে অবশ্যই Vet এর কাছে যেতে নিয়ে হবে।

Read more...

বিড়ালের নখ কাটবেন কিভাবে?

বিড়ালের নখ কি কাটা যাবে?
হ্যাঁ, বিড়ালের নখ কাটা যাবে। কিন্তু খুবই সামান্য পরিমানে trim করতে হবে। নখের সামান্য একটু ভিতরের দিকে মাংস থাকে, তাই সতর্কতার সাথে কাটতে হবে যেন কোন ভাবেই ঐ পর্যন্ত না কাটা হয় তাহলে রক্তক্ষরণ শুরু হবে।

নখ কাটার পদ্ধতিঃ
১। প্রথমে বিড়ালকে শান্ত করতে হবে, উত্তেজিত অথবা রাগান্বিত অবস্থায় নখ কাটা যাবে না। Treat দিয়ে বিড়ালকে খুশি করুন।
২। তাকে আদর করে কোলে তুলে নিন।
৩। একটি পা ধরুন এবং পায়ের তলার মাংসে হালকা করে চাপ দিন এতে করে নখগুলো থাবা থেকে বের হয়ে আসবে।
৪। এরপর বিড়ালের Nail Clipper অথবা মানুষের Nail Cutter দিয়ে সাবধানে নখের আগা অল্প করে কাটুন। একটু ভিতরের মাংস(quick) যেন না কেটে যায় লক্ষ্য রাখতে হবে, এতে বিড়াল ব্যথা পাবে এবং রক্তক্ষরণ হবে।
৫। অনেক বিড়াল ধরতে দিতে চায় না, সেক্ষেত্রে তার ঘাড়ের চামড়া ধরে অথবা মাথার উপর একটা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে দিয়ে চুপ করাতে হবে।

Read more...

বিড়ালকে বিভিন্ন রোগ থেকে নিরাপদে রাখার উপায়

অনেকেই আজকাল পোষাপ্রাণী হিসেবে বিড়ালকে নির্বাচন করছেন। লালন পালনে সুবিধা এবং দেখতে খুব সুন্দর এবং আদুরে এই প্রাণীটি একটু খাবার এবং আশ্রয় পেলেই সহজে পোষ মেনে যায়। আপনার প্রিয় বিড়ালটি অসুস্থ যাতে না হয় সে দিকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখবেন বিড়াল খুব সংবেদনশীল প্রাণী, একটু অসুস্থতায় তাদের মৃত্যু হতে পারে। তাই কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে আপনি এবং আপনার প্রিয় বন্ধুটি বিভিন্ন অসুস্থতার থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

১। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিকভাবেই বিড়াল পরিস্কার থাকতে পছন্দ করে। বিড়ালকে Pee ও Poop করার ভাল একটা ব্যবস্থা করে দিতে হবে এবং নিয়মিত পরিস্কার করতে হবে। টয়লেট, কাগজ অথবা লিটার স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি। বালি এবং মাটি না দেয়াই ভাল, এতে প্রচুর ক্রিমির ডিম থাকে।
২। প্রতিবার লিটার বক্স পরিস্কার Poop গুলো দূরে ফেলে দিতে হবে এবং শেষে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।
৩। বিড়ালকে Tick & Flea এবং কৃমিমুক্ত রাখতে হবে। এই Tick & Flea এবং কৃমি বিড়ালের মধ্যে রোগ বহন করে থাকে।
৪। মাসে অন্তত একদিন বিড়ালকে গোসল করাতে হবে (শীতকালে নয়)।
৫। বিড়ালকে ১ বছর পরপর নিয়মিতভাবে টিকা (Vaccine) দিতে হবে। এতে করে বিভিন্ন রোগ যেমনঃ জলাতঙ্ক, Feline Calicivirus(cat flu) , Rhinotracheitis, Panleukopenia ইত্যাদি রোগ হওয়ার সম্ভবনা থাকে না।
৬। বিড়াল যদি সুস্থ থাকে এবং কামড় দেয় তাহলে সাবান দিয়ে ভাল করে ধুয়ে অ্যান্টিসেপটিক লাগাতে হবে। বিড়াল অসুস্থ থাকলে (Vet) ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা নেয়া উচিৎ।
৭। বাইরের বিড়ালের সাথে মিশতে দেয়া যাবে না। Stray বিড়াল বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত থাকতে পারে। তারা যদি রোগাক্রান্ত হয় তাহলে তাদের কামড় অথবা আঁচড়ে আপনার বিড়াল রোগাক্রান্ত হতে পারে।
৮। বিড়ালকে কাঁচা মাছ এবং মাংস খেতে দেয়া যাবে না। এতে অনেক ব্যাকটেরিয়া থাকে। সেদ্ধ করা খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে। বিশেষকরে শূকরের মাংস একদমই খাওয়ানো যাবে না।
৯। বিড়ালকে ইদুর, তেলাপোকা ইত্যাদি খেতে দেয়া যাবে না। জলাতঙ্ক রোগটি মুলত ইদুর এবং বাদুড় থেকে আসে।
১০। অনেকের ধুলা, বিড়ালের লোমে অ্যালারজি থাকে। তখন বিড়ালের সংস্পর্শে এলে হাঁচি শুরু হয়, চোখ দিয়ে পানি পড়ে, শরীর চুল্কায় এবং লাল হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খেয়ে নিবেন।
১১। বিড়ালের লোম থেকে কোন রোগ ছড়ায় না বরং আপনার যদি হাঁপানি থাকে সেক্ষেত্রে বিড়ালের লোম নাকে গেলে আপনার সমস্যা বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে বিড়ালকে আদর করার পর অবশ্যই হাত ধুয়ে নিবেন।

সেই প্রাচীনকাল থেকেই বিড়াল নিয়ে কল্প কাহিনী, কুসংস্কারের শেষ নেই। বিড়াল ঘরে পালা যাবে না, কামড় দিলে, খামচি দিলে রোগ হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আধুনিক যুগে সেই ধারনাকে ভুল প্রমান করে অনেকেই সুস্থ-স্বাভাবিক ভাবে ঘরে বিড়াল পুষছেন।

Read more...

বিড়ালের ডায়রিয়া হলে প্রাথমিকভাবে যা করনীয়

বিড়ালের ডায়রিয়া হলে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ অবস্থায় বিড়াল খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায়। তাই প্রথমেই বুঝতে হবে কি কারনে পেট খারাপ হচ্ছে। নিচে পেট খারাপের কিছু কারন দেওয়া হলঃ
১। গরুর দুধ ঘন করে খেলে।
২। নতুন করে Cat Food খাওয়া অথবা Cat Food এর Brand পরিবর্তন করলে।
৩। মাত্রা অতিরিক্ত খাবার খেলে।
৪। হটাৎ করে (অভ্যাস না থাকলে) কাঁচা মাছ অথবা মাংস খেলে। অতিরিক্ত ঘাস বা লতা জাতীয় পাতা খেলে।
৫। পোকা মারার স্প্রে, শ্যাম্পু, পাউডার অথবা ওষুধ জাতীয় কিছু মুখে গেলে।
৬। কৃমির কারনে।
৭। জ্বর অথবা অন্য কোন অসুখ এর কারনে।
করণীয়:
## প্রথমেই প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে স্যলাইন খাওয়াতে হবে। মানুষের ওরস্যলাইনকে পরিমানমত অল্প পানিতে গুলিয়ে অথবা রাইস স্যলাইন রান্না করে ১/২ ঘণ্টা পর পর ২ সিরিঞ্জ করে খাওয়াতে হবে। খেতে না চাইলে ওয়েট ফুড অথবা মাছ মিশিয়ে ফ্লেভার বানিয়ে খাওয়াতে হবে অথবা সিরিঞ্জ এবং ড্রপার দিয়ে জোর করে খাওয়াতে হবে। Petme Probiotic খাবারের সাথে মিশিয়ে দিলে খুব ভাল কাজ করবে। এটি খুব দ্রুত পানিশূন্যতা দূর করে এবং পায়খানা বন্ধ করে এবং কোন সাইড ইফেক্ট নেই। এভাবে ১/২ দিনের মধ্যেই পাতলা পায়খানা হলে তা কমে যাবে। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি না কমে তাহলে অবশ্যই কোন ভেট এর সাথে যোগাযোগ করে ডায়রিয়া কমানোর জন্য ওষুধ খাওয়াতে হবে।
## এসময় সেদ্ধ মুরগীর মাংস এবং মাংস সেদ্ধ পানি, মিষ্টিকুমড়া সেদ্ধ এসব খাবার দেওয়া উচিৎ। মনে রাখতে হবে ভাত, মা্ছ,‌ মাংস যাই দেয়া হোক না কেন, ব্লেনড করে নরম করে দিতে হবে।
## যদি গরুর দুধের কারনে হয় তাহলে অবশ্যই সেটা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। সম্ভব না হলে সমান পরিমান পানি মিশিয়ে তারপর খাওয়াতে হবে।
## প্রথমবার Dry Food খাওয়ালে পেট খারাপ হতে পারে, এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ২-১দিনের মধ্যে এটি ঠিক হয়ে যায়। তখন খুব অল্প পরিমানে দিতে হবে অথবা পেট ভাল হওয়া পর্যন্ত Dry Food দেয়া বন্ধ রাখতে হবে। আবার Brand পরিবর্তন করলে হতে পারে। তখন পুরনো খাবারের সাথে মিশিয়ে আস্তে আস্তে অভ্যাস করতে হবে।
## যারা সব সময় সেদ্ধ এবং রান্না করা খাবার খায় সে সব বিড়াল কাঁচা খাবার খেলে বমি এবং পাতলা পায়খানা করে। সুতরাং এমন হলে সাথে সাথে কাঁচা খাবার দেয়া বন্ধ করতে হবে।
## অনেক সময় কৃমি হলে পাতলা পায়খানা আর বমি হয়। পায়খানার মধ্যে কৃমি দেখা যায়। তখন খুব দ্রুত ভেটের পরামর্শ অনুযায়ী কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে। জ্বর অথবা অন্য কোন শারীরিক সমস্যার জন্য হলে অবশ্যই ভেটের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়াতে হবে।
উপরোক্ত কারন ছাড়াও বিভিন্ন কারনে বিড়ালের ডায়রিয়া হতে পারে। বদহজমের কারনে অথবা বিভিন্ন কারনে potty নরম হতে পারে। দুর্গন্ধযুক্ত সাথে মিউকাস অথবা হালকা রক্ত যেতে পারে। বার বার পাতলা পায়খানা হলে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।

Read more...